Tuesday, September 15, 2015

হানিমুন - আর্চেস ন্যাশনাল পার্ক

(আমরা কি ভাবে এখানে এলাম)

আজকের গল্পটা দুরকমভাবে লেখা যায়।

আমি সাধারণত যেভাবে ব্লগ লিখি সেইভাবে লিখলে পরপর যে ঘটনাটা যতক্ষণ ধরে ঘটেছে সেটার জন্য মোটামুটি সেই অনুপাতে শব্দ খরচ করতে হয়। সেভাবে লিখলে এই ব্লগ পোস্টের বেশিরভাগটাই হবে আমাদের সারাদিনের ঘোরার বিষয়ে। আর অন্যভাবে লিখলে, অর্থাৎ আমি যদি যে ঘটনাটা আমার মনে বেশি দাগ কেটেছে সেটার পিছনে বেশি শব্দ খরচ করি তাহলে রাতটা একটা বড় অংশ জুড়ে থাকবে।

আমি দ্বিতীয় পদ্ধতিতেই আজকের গল্পটা বলব।

আমরা যেহেতু আগেরদিন সারাদিন ঘুরে রাতে সাড়ে এগারোটার পরে মোয়াবে এসে হোটেলে ঢুকেছিলাম, আমাদের আর সূর্যোদয় দেখতে যাওয়ার মতন অবস্থা ছিলনা। তাছাড়া আমি জায়গাটা চিনতামও না, যে জানব কখন কোথায় যাওয়া উচিত। তাই সকালে ঘুম ভাঙলো মুখে রোদ পড়ায়। রাতে বুঝতে পারিনি, আমাদের হোটেলের সামনে কিছু দুরেই একটা খাড়া পাহাড় আছে। সূর্যটা তার উপর দিয়ে উঁকি মারছে, মানে বেশ কিছুক্ষণ আগেই উঠেছে। আমরা তাড়াতাড়ি রেডি হয়ে হোটেলের টাকাপয়সা মিটিয়ে ফ্রি ব্রেকফাস্ট খেয়ে বেরিয়ে পড়লাম। আজ আমাদের গন্তব্য আমাদের হোটেল থেকে মাইল ছয়েক দূরে আর্চেস ন্যাশনাল পার্ক।
মোয়াবে হোটেলের পাশের রাস্তায়, আমাদের গাড়ির সামনে 

আর্চেস ন্যাশনাল পার্ক দেখার আমার বহুদিনের সাধ। এখানে ২০০০ এরও বেশি প্রাকৃতিক খিলেন বা আর্চ আছে। এছাড়াও আছে বেলেপাথর বা স্যান্ডস্টোনের খাড়া খাড়া দেওয়াল যাকে "fins" বলে, আর আরও অনেক রকম অদ্ভূত অদ্ভূত চেহারার পাহাড় আর পাথরের চাঁই। এই আশ্চর্য জিনিসগুলো কিভাবে তৈরী হল সেটা জানতে হলে এই ভিডিওটা দেখতে হবে, আমরা এটা পার্কের ভিসিটর্স সেন্টারে দেখলাম। তারপর গাড়ি নিয়েই বেরিয়ে পড়লাম পার্কটা ঘুরে দেখতে। পার্কের ভেতর একটাই রাস্তা, ১৮ মাইল লম্বা। তার বিভিন্ন পয়েন্টে গাড়ি থামিয়ে বিভিন্ন দৃশ্য দেখা যায়, হাইকিং-ও করা যায় কয়েক জায়গা থেকে।






আমরা হাইকিং করব ভেবেই বেরিয়েছিলাম। প্রথম সুযোগেই গাড়ি পার্ক করে কিছুটা হাইকিং করেও নিলাম। হাইকিং মানে একটা খাদের মধ্যে নামা, যার দুদিকে উঁচু উঁচু ন্যাড়া পাথরের খাড়া পাহাড় আর দেওয়াল আর থামের মতন মাথা তুলে দাঁড়িয়ে আছে। গাছপালা কম, কিছু শুকনো মতন বেঁটে-বেঁটে জুনিপার রয়েছে যেগুলো সাপের মতন এঁকে-বেঁকে মাটিতে শুয়ে-বসে আছে। জন্তু বলতে দেখলাম একটা গিরগিটি, যদিও শুনলাম কখনও কখনও  পাহাড়ি ভেড়া দেখা যায়।হাইক করে ছবি ভালই উঠলো, কিন্তু সেটা করতে প্রায় এক ঘন্টা লেগে গেল, আর মরুভূমির গরমে যে পরিমান খাটতে হল, আমরা ঠিক করলাম নেহাত দরকার না পড়লে আর হাইক করবনা।


Balanced Rock 
তারপর গাড়ি থেকে বা গাড়ি থামিয়ে রাস্তা থেকে আরও অনেক কিছু দেখলাম। পাথর হয়ে যাওয়া বালিয়াড়ি দেখলাম, পাথরের উঁচু উঁচু প্রাকৃতিক মিনার দেখলাম, কাঠির মাথায় আলুর দমের মতন "Balanced Rock" দেখলাম। তারপর আমরা এসে পড়লাম প্রথম আর্চগুলোর সামনে।


নর্থ ও সাউথ উইন্ডো ওরফে চশমা (The Spectacles)

এই প্রকান্ড পাথরের আর্চগুলোর ছবি বইতে বহুবার দেখেছি, কিন্তু সামনে দাঁড়িয়ে দেখার অভিজ্ঞতার সঙ্গে তার তুলনা হয়না। আমি একটা পাহাড়ের গায়ে দাঁড়িয়ে, আমার মাথার ওপর দিয়ে পাহাড়ের একটা বিশাল অংশ এদিক থেকে ওদিক চলে গেছে, এটা ভাবতেই কেমন অদ্ভুত লাগে। আমরা যে আর্চটার নিচে বেশি সময় কাটালাম সেটার নাম নর্থ উইন্ডো। সেটার নিচের দিকে আবার ভাঙা পাথরের চাঁই ঝুলে আছে, সেটা মাথায় পড়লে আর খুঁজে পাওয়া যাবেনা। সেটা ছাড়াও আসে-পাশে দেখলাম সাউথ উইন্ডো, পাশে একটা অদ্ভূত পাথরের মিনার ওয়ালা টারেট আর্চ, আর একসঙ্গে জোড়া ডাবল আর্চ।
নর্থ উইন্ডোর নিচে আলগা পাথর
নর্থ উইন্ডোর নিচে আলগা পাথর
টারেট আর্চ 

পুরো ১৮ মাইল রাস্তাই আমরা সেদিন গাড়ি করে ঘুরলাম। পার্কের সবথেকে বিখ্যাত আর্চ "ডেলিকেট আর্চ" অবশ্য আমরা দূর থেকেই দেখলাম, কারণ ওটার  নিচে যাওয়ার হাইকটা একটু বেশিই শক্ত আর বিপজ্জনক। আরেকটা বিখ্যাত আর্চ, "ল্যান্ডস্কেপ আর্চ" - সেটাও দেখা হলনা, কারণ সেখানে যেতেও হাইক করতে হত আর আমরা খুব ক্লান্ত হয়ে পড়েছিলাম। কিন্তু তার বদলে আমরা আরেকটা প্ল্যান করলাম। আর্চেস ন্যাশনাল পার্ক সারা দিনরাত খোলা থাকে, তাই আমরা ঠিক করলাম হোটেলে ফিরে একটু বিশ্রাম নিয়ে এসে আবার সূর্যাস্ত দেখব, তারপর রাতে অনেকক্ষণ পার্কেই থাকব। তাই আমরা বিকেল হওয়ার একটু আগেই হোটেলে ফিরে এলাম।

ডেলিকেট আর্চ 

পাথরের ফিন 
 সূর্যাস্তের কিছুক্ষণ আগে আমরা আবার গাড়ি নিয়ে এসে হাজির হলাম আর্চেস ন্যাশনাল পার্কের ভেতর। সকালে ১০ ডলারের টিকিট কেটেছিলাম, যেটা এক সপ্তাহ কাজ দেবে, কিন্তু এখন দেখলাম টিকিট দেখার জন্য কেউ নেই। আমরা ঠিক করেছিলাম আবার নর্থ উইন্ডোতেই যাব। প্রথমত আমাদের জায়গাটা বেশ পছন্দ হয়েছিল কারণ আর্চ অবধি যাওয়াটা সহজ (আর আমি কতটা সাহসী সেটা সবাই জানে), আর দ্বিতীয়ত অন্যান্য আরও জনপ্রিয় জায়গাগুলোতে ভিড় হওয়ার সম্ভাবনাও আরও বেশি। অস্তগামী সূর্যের লাল আলোয় লাল পাথরের পাহাড় আর আর্চগুলোকে আরও সুন্দর দেখায়, আর আমরা সেটা দেখতেও পেলাম আসতে আসতে, কিন্তু যখন আমরা গাড়ি থেকে নামলাম প্রায় সেই মুহুর্তেই সূর্যটা কিছু মেঘের আড়ালে মুখ লুকোলো, সেদিন আর বেরলনা। তাই পাথরের ওপর লাল রোদ্দুরের সেই ছবিটা শুধুমাত্র আমাদের স্মৃতিতেই গেঁথে রইল, ক্যামেরাবন্দী করা গেলনা।


আমরা রাস্তা থেকে হেঁটে নর্থ উইন্ডো আর্চের ঠিক তলায় দুটো সমতল পাথর বেছে আস্তানা গাড়লাম। আমার পাথরটার পিছনে আবার হেলান দেওয়ার মতন আরেকটা পাথর ছিল। এদিক ওদিক আরও লোকজন বসেছিল, পশ্চিম দিগন্তে সূর্য আর মেঘের লুকোচুরি খেলা দেখতে দেখতে নিজেদের মধ্যে গল্প করছিল। ট্রাইপড রেখে ক্যামেরা সেট করে আমরাও কথাবার্তা বলতে লাগলাম।  এদিকে সূর্যাস্ত হল ৮:১৭তে, আর তারপর আকাশের নীলটা ক্রমশ হালকা থেকে ঘন হয়ে উঠল। মেঘটাও ক্রমশ দিগন্তের দিকে সরে যেতে লাগল।


"কটা বাজল বলো ত?"

"নটা।"

"সবে নটা? তাহলে তো অনেকক্ষণ অপেক্ষা করতে হবে। আকাশে তো এখনও কিছুটা আলো রয়েছে।"

"সে তো বটেই, হোটেলে ফিরতে রাত হবে। এদিকে কাল আবার খুব ভোরে বেরোনো।"

"কিন্তু কি আর করা যাবে, অন্ধকার নামার আগে তো ফেরার মানে হয়না।"

"না তা হয়না। দেখো তো, একটাও তারা দেখা যাচ্ছে কি?"

"হ্যাঁ, ওই তো মাথার ওপর একটা তারা, দেখতে পাচ্ছনা?"

"ওটা বোধহয় বৃহস্পতি। স্থির হয়ে আছে।" আমি ফোনে স্কাইম্যাপ চালিয়ে যাচাই করে নিলাম ঠিক বলছি কিনা।

"না না ওটা নয়, ওর পাশে আরেকটা। মিটমিট করছে, দেখো।"

আমি চোখ কুঁচকে ওপরে তাকালাম। পৌলমীর চোখ নিশ্চয়ই আমার থেকে অনেক ভাল, কারণ আমি কিছুই দেখতে পেলামনা। চোখ থেকে চশমাটা খুলে ভাল করে মুছে আবার পরলাম। কিছুক্ষণ চোখ বুজে থেকে তারপর চোখ খুলে আবার ওপরে তাকালাম। এবারে দেখতে পেলাম একটা মিটমিটে তারা।

"আমিও দেখতে পেয়েছি!"

"ওমা, এখন তো অনেকগুলোই দেখা যাচ্ছে। ওই আরেকটা। আর ওদিকে এক গুচ্ছ।"

আমি রণে ভঙ্গ দিয়ে চারিদিকে তাকালাম। যারা সূর্যাস্ত দেখতে এসেছিল তারা অনেকেই ফিরে গেছে। কিছু লোকজন আছে, আর কিছু এখনও আসছে, রাস্তা থেকে তাদের গাড়ির হেডলাইট এসে পড়ছে পাহাড়ের গায়ে। আসেপাশে যারা বসে আছে তারা নিচু গলায় কথাবার্তা বলছে। কেউ কেউ মাঝেমধ্যে টর্চ জ্বালছে। আমরা যেখানে বসেছি সেখানটা সামনে পিছন দুদিকের থেকেই উঁচু। সামনে অর্থাৎ যে দিক থেকে আমরা উঠে এসেছি, আর পিছনটা আরো এবড়ো-খেবড়ো পাথরে ভর্তি, একটা খাদের মতন হয়ে নেমে গেছে। মানে পাহাড়টা আসলে একটা বেলেপাথরের পাঁচিল বা "ফিন", আর আর্চটা সেই পাঁচিলের গায়ে একটা গর্ত। আমরা সেই গর্তে বসে আছি, আর চারিদিকে ছড়িয়ে রয়েছে সেই সব পাথর যা ভেঙে পড়েই এই গর্তটা তৈরী হয়েছে। মাথা তুললে ওপরে দেখতে পাচ্ছি অন্ধকার হয়ে আসা আকাশের মাঝখান দিয়ে আরও বেশি অন্ধকারের বিশাল একটা ফালি আমার সামনের দিক থেকে পিছন দিকে চলে গেছে। লক্ষ লক্ষ টন পাথর আমাদের মাথার ওপর শুন্যে ঝুলে আছে, এবং মাঝে মধ্যে এগুলো ভেঙ্গেও পড়ে, যদিও আজ অবধি কারও মাথায় পড়েছে বলে শোনা যায়না। সেটা ভেবে যে আমার খুব ভয় করছিল তা বলবনা, কিন্তু একবার একজন বেশি উত্সাহী ভদ্রলোক জোরালো টর্চের আলো ফেলে তাঁর সঙ্গিনীকে আর্চের তলাটা দেখাচ্ছিলেন, যেখানে আলগা আলগা পাথরের চাঁই ঝুলে আছে, তখন আমার ভয়ানক অস্বস্তি হওয়ায় আমি চোখটা দিগন্তের দিকে ফিরিয়ে মনটা অন্য দিকে চালানোর চেষ্টা করলাম। দূরে টারেট আর্চের তলায় টর্চের আলোর জ্বলা-নেভা দেখে বুঝলাম সেখানেও আমাদের নর্থ উইন্ডোর মতন কিছু লোক রয়েছে।

ইতিমধ্যে ঘড়ির কাঁটাটা দশটার দিকে এগিয়ে গেছিল অনেকটাই। ওই খোলা প্রান্তরের মাঝখানে পাহাড়ের ফোকরে বসে লক্ষ্য করিনি, কৃষ্ণপক্ষের রাতে আকাশটা অন্ধকার হয়ে গেছিল পুরোপুরি, আর তার সঙ্গে সঙ্গে দক্ষিণ দিগন্তের ওপর থেকে লম্বা হয়ে যে জিনিসটা আকাশের একটা বড় অংশ দখল করে বসেছিল সেটা দেখার স্বপ্ন আমার বহুদিনের, আর সেটা দেখতেই আজ রাতে আমাদের এখানে আসা।

আমাদের ছায়াপথ। Milky Way.

দিনের বেলা তেতে থাকার ফলে পাথরের আসনগুলো তখনও পুরোপুরি ঠান্ডা হয়ে যায়নি, বেশ আরামদায়ক একটা তাপমাত্রায় রয়েছে । ফুরফুর করে হাওয়া দিচ্ছে, আর তার সঙ্গে আকাশ জুড়ে তারার মেলা। লোকজনের কথাবার্তাও খাদে নেমে গিয়েছিল। হঠাৎ এক ঝলক আগুন আকাশের মাঝখান থেকে সাঁ করে একটা সরলরেখা টেনে অন্ধকারে মিলিয়ে গেল। লোকজনের উল্লসিত কন্ঠস্বর আর দুয়েকটা হাততালি শোনা গেল। উল্কা! মনে পড়ল অগাস্ট মাসের মাঝামাঝি এখন পার্সিড উল্কাবৃষ্টির (Perseid meteor shower) সময়। নিজেকে সৃষ্টির এত কাছাকাছি কোনওদিন অনুভব করিনি। শহরে আলো আর দূষণের মাঝে থেকে এমন অবস্থা হয়েছে যে ছায়াপথ দেখা তো দূরের কথা, উল্কাপাতের মতন সাধারণ ঘটনাও দেখিনি কত বছর। ইচ্ছে করছিল সারারাত এখানে পাথরের ওপর শুয়ে কাটিয়ে দিই।



কিন্তু পরদিন আমাদের ভোরবেলা বেরিয়ে পড়তে হবে আমাদের পরবর্তী গন্তব্যের উদ্দেশ্যে। আমরা এখনও আমাদের হোটেল থেকে মাইল পনেরো দূরে রয়েছি, অন্ধকার রাস্তায় গাড়ি চালিয়ে ফিরতেও হবে। তাই একটা সময়ে আমাদের উঠে পড়তেই হল। আমরা সন্তর্পনে টর্চ জ্বেলে পাথর ডিঙিয়ে ডিঙিয়ে ক্যামেরা ট্রাইপড সব নিয়ে কিছুটা নিচে নামলাম। তারপর আরও কয়েকটা ছবি তুললাম। আমি ছাড়া অন্য লোকেরাও আকাশের ছবি তুলছিল। আকাশটা তারার আলোতেই আলোকিত হয়ে ছিল, আর এক কোনে মোয়াব শহরের আলোটা দিগন্তের ওপর বোঝা যাচ্ছিল। পাথরের আর্চ আর থামগুলো অন্ধকারে কালো কালো ভুতের মতন উঠছিল ছবিতে। তবে ছবি তোলার সময়ে ওগুলোতে টর্চের আলো ফেললে ছবিতে ওগুলো স্পষ্ট দেখা যায়। এত লোক সেরকম ছবি তুলছিল যে আমায় আর টর্চ ফেলতে হয়নি, অন্যের আলোতেই আমার ছবি তোলা হয়ে গেল। আমরা আধ ঘন্টায় অন্তত ৬-৭টা উল্কা দেখলাম, যদিও একটাও ছবিতে উঠলনা। আকাশে কিছু আলোর বিন্দু দ্রুতবেগে সরলরেখায় চলাফেরা করছিল। তার মধ্যে কিছু এরোপ্লেন, আর কিছু হয়ত কৃত্রিম উপগ্রহ।




এক সময়ে ছবি তোলা শেষ হলো, বা বলা ভালো, ইচ্ছে না থাকলেও ছবি তোলা শেষ করলাম। গাড়ি অবধি হেঁটে আসতে গিয়েই বুঝলাম যে অন্ধকারে নিজের হাত-পা দেখা যাচ্ছেনা। টর্চ নিয়ে কোনওমতে গাড়িতে উঠে তারপর পার্কের রাস্তা দিয়ে গাড়ি চালিয়ে হোটেলে ফিরে এলাম। ফেরার পথে দুটো গাড়ি উল্টোদিকে যেতে দেখলাম, আর বুঝতে পারলাম অনেক লোক এখন সবে আকাশ দেখতে যাচ্ছে। দু জায়গায় দেখলাম লোকে রাস্তার ধারে গাড়ি দাঁড় করিয়ে মাটিতে শুয়ে আছে। আমাদের অবশ্য খোলা আকাশের নিচে শোয়ার উপায় ছিলনা, আমরা তাই হোটেলের ঘরে এসেই শুয়ে পড়লাম।

পরদিন ভোর চারটেয় অ্যালার্ম দিয়ে শুলাম। সূর্যোদয় না দেখেই কাল আমরা চলে যাব ব্রাইস ক্যানিয়ন (Bryce Canyon)। ব্রাইস ক্যানিয়ন দেখারও আমাদের প্রবল ইচ্ছে, কিন্তু সেই সঙ্গে এটাও মনে হচ্ছিল, হয়ত আর্চেস এর এই রাতের পর আমাদের বাকি ট্যুরটা অ্যান্টি-ক্লাইম্যাক্স হয়ে যাবে।



3 comments:

Kuntala said...

এতদিন এই আর্চগুলো দেখে ভাবতাম কতদূরের ব্যাপার। আজ আপনার ব্লগে ছবিগুলো দেখে মনে হল, খুবই অদ্ভুত মনে হওয়া, যেন আর ঠিক অতটাও দূরে রইল না জিনিসগুলো। আমি দেখিনি, কিন্তু আমার খুব চেনা একজন দেখেছেন। কাজেই আমারও দেখাই হল একরকম।

আপনার লেখায় খিলান শব্দটা পড়েও ভারি ভালো লাগল। খিলান কথাটা আজকাল এত কম শুনি, যে নিজেও ফস করে ব্যবহার করতে পারতাম না। এমন সুন্দর একটা শব্দ . . .

সব ছবিই সুন্দর। আপনার আর পৌলমীর ছবিটা চমৎকার। পরের পর্বের অপেক্ষায় রইলাম।

Joy Forever said...

@কুন্তলা : অনেক অনেক ধন্যবাদ। খিলান কথাটা আমার বাবার কাছে শেখা। আসলে আমি ছোটবেলায় হুগলিতে যে বাড়িতে থেকেছি সেই বাড়িটায় খিলান ছিল, তাই কথাটা ব্যবহার করার প্রয়োজন হত।

আর ছবির কথা যে বললেন, এসব জায়গা এমন যে ছবি তুললেই ভালো হয়ে যায়!

Arnab Dast said...

Duronto laglo as usual, Arches jawar iche ta bohugun bere gelo